by অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Anirban Bandyopadhyay)
যৌনপেশা সাধারণত দুটো ভাগে ভাগ করে নেওয়া যায় – (১) রেড লাইট এরিয়া এবং (২) নন-রেড লাইট এরিয়া। রেড লাইট এরিয়ায় মেয়েরা মূলত বিক্রি হয়ে, পাচার ও প্রতারিত হয়ে আসা মেয়েরা বাধ্য হয়ে যৌনপেশায় যুক্ত থাকে। এঁরা সমাজের মূলস্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন। নন-রেড লাইট এরিয়ার মেয়েরা স্বেচ্ছায় যৌনপেশা বেছে নেয়। অতিরিক্ত রোজগারে আশায় এ পেশায় আসে। এঁরা কেউ স্বাধীন, কেউ-বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ করে। এঁরা সমাজের মূলস্রোতে বুক ফুলিয়েই থাকে। চাকরির মতো সকালে সেজেগুজে বেরযগণিকাবৃত্তি বা বেশ্যাবৃত্তি বা যৌনপেশা আমাদের মনুষ্য সমাজে দুটি নজরে বা দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হয়। সর্বাপেক্ষা প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গিটি হল নোংরামি, অনৈতিক এবং দণ্ডনীয়। অর্থাৎ গণিকাবৃত্তিকে দেখা হয় পাপকর্ম বা পাপাচার হিসাবে। অপর দৃষ্টিভঙ্গিটি হল সেফটি ভালব, মানুষের যৌন অবদমন থেকে মুক্তিদাত্রী। যৌনপেশা বা গণিকাবৃত্তি নতুন কোনো জীবিকা নয়। বহু প্রাচীনকাল থেকেই অবিচ্ছেদ্যভাবে চলে আসছে। পরেও থাকবে। প্রাচীন যুগে, এমনকি মধ্যযুগের মাঝামাঝি সময়কাল পর্যন্ত এ পেশায় আসা মেয়েদের মর্যাদা ছিল, সম্মান ছিল, সমাজে কদর ছিল। রাজারা তথা প্রভাবশালী মানুষরা তাঁদের পৃষ্ঠপোষকতা করত, নিয়োগ করত, রাজস্ব নিত। স্বয়ং দ্বারকানাথ ঠাকুরও গণিকালয়ের মালিক ছিলেন। হঠাৎ কী এমন হল যে, এই পেশা এবং এই পেশার সঙ্গে যুক্ত মেয়েরা সমাজের চোখে ঘৃণিত হয়ে গেল ! আইনের চোখেই-বা কেন নিষিদ্ধ হয়ে গেল ? যৌনপেশা ও যৌনকর্মীদের ঘরে-বাইরে সমস্ত বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচিত হয়েছে এই বইয়ে। আলোচিত হয়েছে গণিকা ও গণিকাবৃত্তির অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে। শুধু মেয়ে গণিকা নয়, পুরুষ গণিকা এবং সমকামী গণিকাদের নিয়েও আলোকপাত করা হয়েছে। রোমহর্ষক সব জানা-অজানা তথ্য নিয়ে গড়ে উঠেছে গণিকা বিষয়ক এই আকরগ্রন্থটি। তাঁদের নিয়ে কিছু হয়তো জানি। তবে না-জানাটাই অনেক বেশি। এই বইটি পাঠের মাধ্যমে সাধারণ পাঠকের মনে অনেকদিনের জমে থাকা কৌতূহলী সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন সেই আশা রাখি।
Be the first to discover connections for this book!
Discover hidden gems with our 'Gap Finder' and explore your reading tastes with the 'Mood Galaxy'. Go beyond simple lists.